১২০ মিনিটের লড়াইয়েও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি গোলশূন্য থাকায় ফল নির্ধারণে গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
ভ্যানকুভারে বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় গোল করতে পারেনি। ফলে উত্তেজনাহীন ম্যাচের সব নাটকীয়তা জমা হয় টাইব্রেকারে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধে বলের দখল ও সুযোগ তৈরিতে কিছুটা এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। ২১তম মিনিটে গুস্তাভো পুয়ের্তার দূরপাল্লার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। ২৯তম মিনিটে ফাবিয়ান রিডারের শট চমৎকারভাবে ঠেকান কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। ৩৩তম মিনিটে ড্যান এনদোয়ের শটও রুখে দেন তিনি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৪৮তম মিনিটে জিব্রিল সো দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন। চার মিনিট পর ফ্রি কিক থেকে ফাবিয়ান রিডারের দুর্দান্ত প্রচেষ্টা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ৫৯তম মিনিটে মাঝমাঠে ফাউল করে ম্যাচের একমাত্র হলুদ কার্ডটি দেখেন সুইজারল্যান্ডের ডেনিস জাকারিয়া। ৬৮তম মিনিটে দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতির আগ পর্যন্ত সুইসরা কিছুটা আধিপত্য বিস্তার করলেও ক্যামিলো ভার্গাসের দৃঢ় গোলকিপিং কলম্বিয়াকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। অন্যদিকে ৮০তম মিনিটে ড্যান এনদোয়েকে বিপজ্জনক এলাকায় ফাউল করে কলম্বিয়ার ড্যানিয়েল মুনিওস সুইজারল্যান্ডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রি কিক উপহার দিলেও সেখান থেকেও গোল আসেনি।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে দুই দলই সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যোগ করা সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও একই চিত্র দেখা যায়। খেলোয়াড়দের শরীরে ক্লান্তি স্পষ্ট হলেও কেউ রক্ষণে ফাঁক দেয়নি। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল ও কামিলো ভার্গাস দুজনই আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দেন। ফলে ১২০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন থাকে ০-০।
টাইব্রেকারে প্রথমে গোল করেন কলম্বিয়ার হুয়ান কুইন্তেরো। জবাবে সফল হন জাকা। এরপর দাভিনসন সানচেজের শট ক্রসবারে লাগে। সুইজারল্যান্ডের আমদুনি গোল করলেও পরে ম্যানুয়েল আকাঞ্জি শট বারের ওপর দিয়ে মারায় সমতা ফেরে।
চতুর্থ শটে কুচো হার্নান্দেজের নেওয়া পেনাল্টি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গ্রেগর কোবেল। এরপর সেড্রিক ইত্তেন গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।
শেষ আশা হয়ে পঞ্চম শটে গোল করেন লুইস দিয়াজ। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের শেষ শট নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রুবিন ভার্গাস। তার সফল শটেই ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।
১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল সুইসরা। শেষ আটে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।











